অনেক আগেকার কথা। আমি তখন অনেক ছোট। এক সন্ধ্যায় ছোটাছুটি করতে গিয়ে পড়ে গেলে বা হাত ভেঙে যায়। যতটুকু মনে পড়ে, আব্বা তখন আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গেছিলো। ডাক্তার হাতে ব্যান্ডেজ করে দিলো। হাত গলায় ঝুলিয়ে চিনাবাদাম খেতে খেতে বাড়ি ফিরলাম।
বাড়ির পাশে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে সপ্তাহে দুইদিন হাট বসতো। আব্বা বাজার করতে যাওয়ার সময় পিছ ধরতাম। আব্বার সাথে গেলেই খেলনা বা খাওয়ার জিনিসের জন্য বায়না ধরতাম। আব্বা কিনে দিতেন, তারপর তার হাত ধরে খুশি মনে বাড়ি ফিরতাম।
তারপর একটু বড় হলে, আব্বা শস্য বিক্রির জন্য বাজারে গেলে আমাকেও সাথে নিয়ে যেতেন। খুব ভোরে উঠে ধান মেপে বস্তাগুলো গাড়িতে তুলে তার উপর উঠে চলে যেতাম বাজারে। ধান বিক্রি শেষে আব্বার সাথে কাঁচা বাজারে যেতাম। বাজার করা শেষে বাজারের পাশের জিলাপী দোকানে বসে বাপ-ছেলে মিলে জিলাপী খেতাম। আমি মূলত জিলাপী খাওয়ার লোভেই আব্বার সাথে হাটে যেতাম। খাওয়া শেষে বাড়ির সবার জন্যও আনতাম যেখানে আবার ভাগ পেতাম।
এখন আব্বার বয়স হয়েছে, আমিও বড় হয়েছি। এখনও আব্বা হাটে যান, তবে একলা। এখন আব্বা বললেও আর তার সাথে যাওয়া হয় না। আব্বা একলা-ই-সব করেন। আব্বা মাঝেমধ্যে বলেন বাজার করে আনতে। আব্বা’র ধারণা আমি বাজার করতে পারি না। পারলেও আমাকে নাকি বিক্রেতারা ঠকায়।
আব্বা তার জীবনে অনেক কষ্ট করেছেন। খুব ছোট বেলা থেকেই তিনি ক্ষুদার কষ্ট ভোগ করেছেন। একমুঠো ভাতের জন্য তাকে অন্যের বাড়িতে কাজ করতে হয়েছে। তিনি অনেক কষ্ট করে আমাদের লেখাপড়া শিখিয়েছেন। নিজে লেখাপড়া করার সুযোগ পান নি। তিনি চান আমাদের যেনো তার মতো কষ্ট করতে না হয়। তিনি তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। আমরা-ই-ব্যর্থ হয়েছি। আমরা তার কষ্টের সঠিক মূল্যায়ন করতে পারি নি। আমরা বুঝতে পারি নি তার কষ্ট। আব্বা তো আমাদের বুঝতে দেন নি। তিনি সব কষ্ট তার নিজের উপর নিয়েছেন।
আব্বা হচ্ছে একটি বিশাল বটগাছের মতো। তার ছায়ায় আমাদের আশ্রয়। যিনি আমাদের লালন-পালন করেছেন। কখনো সূর্যের প্রখর আঁচ’কে আমাদের গায়ে লাগতে দেন নি। এখনও তিনি সেটা করে চলেছেন।
হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার পিতামাতার প্রতি দয়া করো, যেমন তারা আমাকে ছোটবেলায় লালনপালন করেছেন।
আল্লাহ আমার আব্বাকে ক্ষমা করুন। পৃথিবীর সমস্ত বাবা’দের উপর আপনার রহমত বর্ষিত করুন। আল্লাহ সবাইকে ক্ষমা করুন।
21-06-2026
Rate This Article
Thanks for reading, আমার বটগাছ! Stay blessed.
